দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্থগিত আলোচনা আবারও শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীনের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদ সফর করেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পথ খুঁজতেই এ বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে পাকিস্তান জটিল কূটনৈতিক অবস্থানে পড়েছে। একদিকে দেশটি সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তাদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে চীনও ইসলামাবাদের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার।
সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং লোহিত সাগরে হামলার ঘটনায় চীনের বাণিজ্যিক স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাকিস্তানি এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলায় চীন সন্তুষ্ট নয়। কারণ এতে তাদের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে চীন সফরকালে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন বলেও সূত্রগুলোর দাবি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তাসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন করে বেইজিং। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটির প্রধান ক্রেতা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা খাতেও ইরানকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে বেইজিং।
এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। তবে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় সংঘাত আবারও শুরু হয়।
এদিকে হুথিদের সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথমেই সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। ইসলামাবাদ এ বার্তাই তেহরানকে জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/